ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আইএমএফের শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 33

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও সমঝোতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা সম্ভব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  সরকারি খরচ কমাতে বলছে আইএমএফ

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানত বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এ চাপ সামলানোর পাশাপাশি অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চায় সরকার।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতি বছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করলেও শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইএমএফের শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও সমঝোতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা সম্ভব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  ভ্যাটের আওতায় আসছে মুদি ও বিউটি পারলার: অর্থমন্ত্রীর

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানত বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এ চাপ সামলানোর পাশাপাশি অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চায় সরকার।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতি বছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করলেও শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।