ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন জ্বালানির আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 205

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও এই বিশাল আর্থিক চাপ দীর্ঘসময় বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলানগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এই সংকটের প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিতে চায় না, তবে সরকারি তহবিল থেকে এভাবে ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি: জ্বালানি সংকটে বিপদে বাংলাদেশ

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিম্নমুখী উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জ্বালানি খাতে বিশাল ভর্তুকি, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ এবং উচ্চ সুদের হারের ঝুঁকি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ে উত্তরণের মতো পূর্ণ প্রস্তুতি বাংলাদেশের নেই। তাই এই প্রক্রিয়াটি কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

উক্ত সভায় অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘদিন জ্বালানির আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও এই বিশাল আর্থিক চাপ দীর্ঘসময় বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলানগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এই সংকটের প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিতে চায় না, তবে সরকারি তহবিল থেকে এভাবে ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

আরও পড়ুন  ‎পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্যার্তদের পাশে থাকবে সরকার: অর্থমন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিম্নমুখী উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জ্বালানি খাতে বিশাল ভর্তুকি, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ এবং উচ্চ সুদের হারের ঝুঁকি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ে উত্তরণের মতো পূর্ণ প্রস্তুতি বাংলাদেশের নেই। তাই এই প্রক্রিয়াটি কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

উক্ত সভায় অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।