ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

 

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আরও পড়ুন  মানিকগঞ্জে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

এর আগে সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে মঙ্গলবার সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৩১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ঘটনাটি ঘটে। রমজানের ছুটিতে শহরের ওই এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয়। এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামি সজীব শেখ (১৯), তার ছোট ভাই (১৭) এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে (৪০) খালাস দেওয়া হয়। সজীব শেখ নিহত শিশুর বোনের স্বামী।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ মামলার নথিও ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট

আপডেট সময় ০১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আরও পড়ুন  মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটি দুইবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’, অবস্থা আরো অবনতির পথে

এর আগে সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে মঙ্গলবার সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৩১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ঘটনাটি ঘটে। রমজানের ছুটিতে শহরের ওই এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয়। এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামি সজীব শেখ (১৯), তার ছোট ভাই (১৭) এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে (৪০) খালাস দেওয়া হয়। সজীব শেখ নিহত শিশুর বোনের স্বামী।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ মামলার নথিও ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়।