ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 34

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও তেল বিক্রির রাজস্ব বন্ধ করে দেশটিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ইরানের তেল কেনা বন্ধ রাখতে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই বৈশ্বিক অভিযানের লক্ষ্য তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি একঘরে করে ফেলা। তার ভাষ্য, ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য যেসব অর্থনৈতিক পথ ও উপায় ব্যবহার করতে পারে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন  ভারত-বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ধস

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত গোপন নেটওয়ার্কগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর যৌথ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক শুরু করেছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে তারা সহযোগিতার সুফল পাবে। অন্যদিকে, যারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক, সাইবার ও তেল বিপণন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ইরানের ছায়া নৌযান পরিচালনাকারী নেটওয়ার্কগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌ-পরিবহন খাতেও সম্ভাব্য সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে দেওয়া কিছু সাধারণ লাইসেন্স ও সুবিধা…

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

ইরানের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও তেল বিক্রির রাজস্ব বন্ধ করে দেশটিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ইরানের তেল কেনা বন্ধ রাখতে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই বৈশ্বিক অভিযানের লক্ষ্য তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি একঘরে করে ফেলা। তার ভাষ্য, ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য যেসব অর্থনৈতিক পথ ও উপায় ব্যবহার করতে পারে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের আশ্বাসে যুক্তরাষ্ট্রে আবার চালু হলো টিকটক

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত গোপন নেটওয়ার্কগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর যৌথ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক শুরু করেছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে তারা সহযোগিতার সুফল পাবে। অন্যদিকে, যারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক, সাইবার ও তেল বিপণন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ইরানের ছায়া নৌযান পরিচালনাকারী নেটওয়ার্কগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌ-পরিবহন খাতেও সম্ভাব্য সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে দেওয়া কিছু সাধারণ লাইসেন্স ও সুবিধা…