ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা সুপার এল নিনোর শঙ্কা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার আত্মীয়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কাশেম মিয়ার বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইওভারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পেজের এডমিন গ্রেফতার শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড মুসলিমদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় প্রধান আসামি আবির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার, ১৭ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ - ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

এর আগে গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করা হয়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। সেদিন বিকেলে বাসার পাশের একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবির মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনার ১৬ দিন পর, ৩০ নভেম্বর নগরের আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন একটি স্লুইচ গেটের গর্ত থেকে শিশুটির দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন আরও কিছু আলামত উদ্ধার করে তদন্তকারী সংস্থা।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে আবিরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থা জানায়, আবিরের বাসা থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

অভিযোগপত্রে আবিরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ঘটনা গোপনের অভিযোগে তার এক কিশোর সহযোগীকেও অভিযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে ঘটনার প্রায় পৌনে চার বছর পর বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় প্রধান আসামি আবির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার, ১৭ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ আহ্বান, কঠিন পরিণতির হুমকি নতুন প্রেসিডেন্টের- ১৬২ আসাদপন্থির ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

এর আগে গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করা হয়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। সেদিন বিকেলে বাসার পাশের একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবির মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনার ১৬ দিন পর, ৩০ নভেম্বর নগরের আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন একটি স্লুইচ গেটের গর্ত থেকে শিশুটির দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন আরও কিছু আলামত উদ্ধার করে তদন্তকারী সংস্থা।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে আবিরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থা জানায়, আবিরের বাসা থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

অভিযোগপত্রে আবিরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ঘটনা গোপনের অভিযোগে তার এক কিশোর সহযোগীকেও অভিযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে ঘটনার প্রায় পৌনে চার বছর পর বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।