ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা সুপার এল নিনোর শঙ্কা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার আত্মীয়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কাশেম মিয়ার বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইওভারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পেজের এডমিন গ্রেফতার শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড মুসলিমদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

মুসলিমদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির দাবি, এসব ঘটনায় বহু মানুষ দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যথাযথ পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় অনেক পরিবার সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বকশীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৭ বাংলাদেশিকে পুশইন করল বিএসএফ

বিজিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে অথবা সীমান্ত এলাকায় আটকে রাখছে, যা মানবাধিকারের পরিপন্থী। তার মতে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন এবং অবৈধ বহিষ্কারের অভিযোগ বন্ধ হওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংস্থাটি নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় বিভিন্ন দলকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ জুন পঞ্চগড় সীমান্তে শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেনের দাবি, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছুটা প্রবেশ করার পর বিজিবি বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়।

রুবেল হোসেন জানান, প্রথম রাতে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তাদের থাকতে হয়েছিল। পরদিন বিএসএফ কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করে। একাধিক পতাকা বৈঠকে সমাধান না আসলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুটি পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দিলে এবং বিএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে না নেওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করেন। পরে তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

৮ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এক গর্ভবতী নারী ও তার সন্তানসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে অবস্থানের পর বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয় বলে বিজিবির তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মার্চ মাসের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। সংস্থাটির মতে, এ পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আসামের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিকবার বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সম্প্রতি তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে অনেককে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি হাসিবুর ইসলাম দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কেউ স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জোরপূর্বক বহিষ্কার বা চাপ প্রয়োগ করে প্রত্যাবাসন গ্রহণযোগ্য নয়।

সংস্থাটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গে আটক থাকা সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম, যদিও কিছু হিন্দুও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই আটকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া সীমান্তে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যেকোনো প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করতে হবে বলে সরকারের অবস্থান।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা ছাড়া সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখাও অমানবিক আচরণের শামিল হতে পারে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাই হোক না কেন, তাকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে অনিরাপদ অবস্থায় রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। তিনি ভারতকে অভিযোগকৃত এসব বহিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মুসলিমদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

আপডেট সময় ০৪:০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির দাবি, এসব ঘটনায় বহু মানুষ দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যথাযথ পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় অনেক পরিবার সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ২৩ নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করলো বিএসএফ

বিজিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে অথবা সীমান্ত এলাকায় আটকে রাখছে, যা মানবাধিকারের পরিপন্থী। তার মতে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন এবং অবৈধ বহিষ্কারের অভিযোগ বন্ধ হওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংস্থাটি নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় বিভিন্ন দলকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ জুন পঞ্চগড় সীমান্তে শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেনের দাবি, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছুটা প্রবেশ করার পর বিজিবি বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়।

রুবেল হোসেন জানান, প্রথম রাতে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তাদের থাকতে হয়েছিল। পরদিন বিএসএফ কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করে। একাধিক পতাকা বৈঠকে সমাধান না আসলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুটি পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দিলে এবং বিএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে না নেওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করেন। পরে তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

৮ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এক গর্ভবতী নারী ও তার সন্তানসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে অবস্থানের পর বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয় বলে বিজিবির তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মার্চ মাসের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। সংস্থাটির মতে, এ পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আসামের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিকবার বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সম্প্রতি তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে অনেককে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি হাসিবুর ইসলাম দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কেউ স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জোরপূর্বক বহিষ্কার বা চাপ প্রয়োগ করে প্রত্যাবাসন গ্রহণযোগ্য নয়।

সংস্থাটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গে আটক থাকা সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম, যদিও কিছু হিন্দুও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই আটকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া সীমান্তে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যেকোনো প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করতে হবে বলে সরকারের অবস্থান।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা ছাড়া সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখাও অমানবিক আচরণের শামিল হতে পারে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাই হোক না কেন, তাকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে অনিরাপদ অবস্থায় রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। তিনি ভারতকে অভিযোগকৃত এসব বহিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।