ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

নোয়াখালীর সেই ‘ধর্ষণকাণ্ড’: ছয়জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 168

ছবি সংগৃহীত

 

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ‘ধর্ষণকাণ্ডের’ ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  মামলার পর বাবার খুন: ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচারের আহ্বান

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নোমান সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ দাখিলের পরই বিচারক মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।

মামলায় হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর একদল ব্যক্তি ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় বাদীর ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাদীকে গোসলখানায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও এলাকায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাদী ও তার স্বামীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। অন্য একটি ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্র অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ধর্ষণ হয়নি’— এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগীর স্বামী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তার স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান।

হাতিয়া থানার ওসি বলেন, আদালতের নির্দেশের বিষয়টি জানা গেছে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সেই ‘ধর্ষণকাণ্ড’: ছয়জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

আপডেট সময় ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ‘ধর্ষণকাণ্ডের’ ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  মামলার পর বাবার খুন: ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচারের আহ্বান

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নোমান সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ দাখিলের পরই বিচারক মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।

মামলায় হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর একদল ব্যক্তি ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় বাদীর ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাদীকে গোসলখানায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও এলাকায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাদী ও তার স্বামীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। অন্য একটি ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্র অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ধর্ষণ হয়নি’— এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগীর স্বামী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তার স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান।

হাতিয়া থানার ওসি বলেন, আদালতের নির্দেশের বিষয়টি জানা গেছে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।