ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা :মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটুর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে প্রেরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • / 596

ছবি সংগৃহীত

 

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।

এর আগে গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং সন্তান সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে খালাস দেন আদালত।

আরও পড়ুন  ইতালিতে তিন বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট ও ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে আট বছরের শিশু আছিয়া হিটু শেখের লালসার শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আছিয়ার।

ঘটনার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানির মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার কাজ।

এই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধারণ মানুষ ও শিশু অধিকারকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের রায় কার্যকর হয় না।

আসামির পক্ষে এখনো আপিলের সুযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা :মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটুর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে প্রেরণ

আপডেট সময় ০৪:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।

এর আগে গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং সন্তান সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে খালাস দেন আদালত।

আরও পড়ুন  সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিজিবি প্রধানের

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট ও ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে আট বছরের শিশু আছিয়া হিটু শেখের লালসার শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আছিয়ার।

ঘটনার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানির মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার কাজ।

এই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধারণ মানুষ ও শিশু অধিকারকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের রায় কার্যকর হয় না।

আসামির পক্ষে এখনো আপিলের সুযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।