ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলাদা পে-স্কেলের চিন্তা শিক্ষকদের জন্য: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

 

ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  মাগুরায় প্রাইভেটকার ও ভ্যানের সংঘর্ষে স্কুল শিক্ষক নিহত

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে-স্কেল চালুর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে যাবে।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এসব সমস্যা থেকে তাদের উত্তরণ ঘটাতে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের বকেয়া নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের অংশ পরিশোধ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বাকি অর্থও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটগুলোর মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

এদিকে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের স্মরণ ও সম্মান জানাতে শিক্ষক দিবসে বিশেষ আয়োজন করা হবে। যোগ্য ও গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের জন্য ব্যাপক পরিসরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে গুণী শিক্ষকদের নির্বাচন করে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি, মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি, কলেজ পর্যায়ে তিনটি এবং সাধারণ, চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি করে—প্রাথমিকভাবে মোট ১২টি সম্মাননা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এ সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে।

এর পাশাপাশি আরও বড় পরিসরে শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ১০০ জন শিক্ষককে নির্বাচন করে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া।

ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং শিক্ষকদের উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, আগের সরকারের সময়ে ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা, সহযোগিতা ও কাজের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

গুণী শিক্ষক নির্বাচনের নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলাদা পে-স্কেলের চিন্তা শিক্ষকদের জন্য: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে-স্কেল চালুর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে যাবে।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এসব সমস্যা থেকে তাদের উত্তরণ ঘটাতে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের বকেয়া নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের অংশ পরিশোধ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বাকি অর্থও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটগুলোর মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

এদিকে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের স্মরণ ও সম্মান জানাতে শিক্ষক দিবসে বিশেষ আয়োজন করা হবে। যোগ্য ও গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের জন্য ব্যাপক পরিসরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে গুণী শিক্ষকদের নির্বাচন করে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি, মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি, কলেজ পর্যায়ে তিনটি এবং সাধারণ, চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি করে—প্রাথমিকভাবে মোট ১২টি সম্মাননা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এ সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে।

এর পাশাপাশি আরও বড় পরিসরে শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ১০০ জন শিক্ষককে নির্বাচন করে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া।

ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং শিক্ষকদের উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, আগের সরকারের সময়ে ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা, সহযোগিতা ও কাজের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

গুণী শিক্ষক নির্বাচনের নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।