সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
- আপডেট সময় ০৩:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 23
পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষাসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মামলার পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে যান আসামিরা। এ সময় তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পায় পুলিশ। তদন্তে ওই নারীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে মামলার কোনো আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে ওই নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে।
পরে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার বিভিন্ন নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিরা। তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা সাজানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার সব নথিপত্র, পুলিশের প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, এ রায়ের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
























