ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে নামছে মোবাইল টিম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 13

 

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল টিম কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচাতে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থার চেয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  মুশফিকের ২৯তম ফিফটি; রানের পাহাড়ে বাংলাদেশ!

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মোবাইল টিমের কার্যক্রম বেগবান করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় প্রশাসকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবার মশক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কোনো বাসা-বাড়ির ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হবে। লার্ভা বিস্তারের উৎসগুলো ধ্বংস করতে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

ঢাকার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ইতিমধ্যে রাজধানীর ২৮টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এই লার্ভা থেকে মশা বড় হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই শুধু হাত দিয়ে মশা মেরে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের পর থেকে শহরজুড়ে সচেতনতামূলক মাইকিং করতে হবে এবং প্রতি দুই-তিন দিন পর পর মোবাইল টিম নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালাতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবহৃত বাথরুম, ড্রেন ও বাগান সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

পরিদর্শনের সময় যদি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে মশার লার্ভা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে প্রাতিষ্ঠানিক জরিমানার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হবে। একই নিয়ম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে নামছে মোবাইল টিম

আপডেট সময় ১১:১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

 

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল টিম কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচাতে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থার চেয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো গুগল পে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মোবাইল টিমের কার্যক্রম বেগবান করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় প্রশাসকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবার মশক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কোনো বাসা-বাড়ির ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হবে। লার্ভা বিস্তারের উৎসগুলো ধ্বংস করতে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

ঢাকার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ইতিমধ্যে রাজধানীর ২৮টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এই লার্ভা থেকে মশা বড় হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই শুধু হাত দিয়ে মশা মেরে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের পর থেকে শহরজুড়ে সচেতনতামূলক মাইকিং করতে হবে এবং প্রতি দুই-তিন দিন পর পর মোবাইল টিম নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালাতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবহৃত বাথরুম, ড্রেন ও বাগান সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

পরিদর্শনের সময় যদি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে মশার লার্ভা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে প্রাতিষ্ঠানিক জরিমানার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হবে। একই নিয়ম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।