ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: পলাতক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 92

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় এক দশক আগে সিমা আক্তার নামে এক পোশাককর্মী স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক (জিয়া) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামি রেজাউলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তবে আসামি রেজাউল এর আগে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বর্তমানে পলাতক থাকায় রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় বসবাস করতেন রেজাউল ও সিমা আক্তার দম্পতি। স্ত্রী সিমা আক্তার স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) কাজ করে সংসার চালালেও স্বামী রেজাউল কোনো কাজকর্ম করতেন না। সিমা তাকে কোনো কাজ করার অনুরোধ করলে রেজাউল প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

আরও পড়ুন  আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ - ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

পারিবারিক এই কলহের জেরে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোররাতে সিমাকে প্রথমে মাথায় আঘাত এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেন রেজাউল। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বাড়ির মালিক তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

এই নৃশংস ঘটনার পরদিনই সিমার বাবা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর রেজাউল আদালতে নিজের স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।

মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক আদালতে রেজাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত এই মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। তবে আসামি রেজাউল জামিন পাওয়ার পর সুকৌশলে আত্মগোপন করায় তিনি আদালতে নিজের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। সবশেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আজ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: পলাতক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় এক দশক আগে সিমা আক্তার নামে এক পোশাককর্মী স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক (জিয়া) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামি রেজাউলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তবে আসামি রেজাউল এর আগে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বর্তমানে পলাতক থাকায় রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় বসবাস করতেন রেজাউল ও সিমা আক্তার দম্পতি। স্ত্রী সিমা আক্তার স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) কাজ করে সংসার চালালেও স্বামী রেজাউল কোনো কাজকর্ম করতেন না। সিমা তাকে কোনো কাজ করার অনুরোধ করলে রেজাউল প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

আরও পড়ুন  হালুয়াঘাটে শাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাতার মৃত্যুদণ্ডাদেশ

পারিবারিক এই কলহের জেরে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোররাতে সিমাকে প্রথমে মাথায় আঘাত এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেন রেজাউল। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বাড়ির মালিক তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

এই নৃশংস ঘটনার পরদিনই সিমার বাবা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর রেজাউল আদালতে নিজের স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।

মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক আদালতে রেজাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত এই মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। তবে আসামি রেজাউল জামিন পাওয়ার পর সুকৌশলে আত্মগোপন করায় তিনি আদালতে নিজের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। সবশেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আজ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন।