ধর্ষণ কমাতে শরিয়াহ আইনেই সমাধান দেখছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
- আপডেট সময় ০৭:৩২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 87
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম ও নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনা দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ আর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পাষণ্ড ধর্ষক ও খুনির প্রতি সর্বস্তরের মানুষ যখন তীব্র ঘৃণা আর ধিক্কার জানাচ্ছেন, তখন এই পৈশাচিক ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
অভিযুক্তকে ‘নরপিশাচ’ আখ্যা দিয়ে তিনি সমাজে এই ধরনের জঘন্য ও নৃশংস অপরাধ কমিয়ে আনার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে পবিত্র ‘শরিয়াহ আইন’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো পোস্টে লেখেন,
“৭ বছরের মেয়েও যাদের কাছে নিরাপদ না, মানুষ নয় তারা নরপিশাচ।”
সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে তিনি আরও মন্তব্য করেন, শিশু ও নারীদের ওপর চলমান অবর্ণনীয় সহিংসতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে চিরতরে দূর করতে অবিলম্বে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। তাঁর সুস্পষ্ট অভিমত, সমাজে এ ধরনের পাশবিক নৃশংসতার মাত্রা পুরোপুরি কমিয়ে আনতে একমাত্র শরিয়াহ আইনই সবচেয়ে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি বহুতল ভবনের তিন তলার ফ্ল্যাট থেকে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘাতকেরা শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথাটি শৌচাগার (বাথরুম) থেকে এবং শরীরের মূল অংশটি ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহত ফুটফুটে রামিসা স্থানীয় ‘পপুলার স্কুল’-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এই লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পেশায় রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ধারণা করছে, মূলত বিকৃত যৌনাচার ও পাশবিক লালসা থেকেই জাকির এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এই চরম অপরাধ ঢাকতে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে সরাসরি সহায়তা করেছে।


























