নবাবগঞ্জের কামারপাড়া; দিনভর চলছে ‘টুং টাং’ শব্দ
- আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 108
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত কয়লার ধোঁয়া, গনগনে লাল লোহা আর হাতুড়ি পেটানোর ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। একদিকে যেমন চলছে নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজ, অন্যদিকে পুরোনো হাতিয়ারে শান দেওয়ারও ধুম পড়েছে।
স্থানীয় কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে সরঞ্জাম তৈরি ও শান দেওয়ার মজুরি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজারে এখন ছোট ছুরি তৈরিতে ২শ থেকে ২শ ৫০ টাকা, বঁটি ৪শ থেকে ৫শ টাকা, চাপাতি ৫শ থেকে ৭শ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি তৈরিতে ৭শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। বছরের অন্য সময়ে দৈনিক আয় ৫শ থেকে ৮শ টাকা হলেও, কোরবানির ঈদের আগে কামারদের দৈনিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।
উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার কারিগর তপন রাজবংশী জানান, পৈতৃক সূত্রে আমি এই কাজ করে আসছি। যখন শুরু করি তখন এ কাজের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিক স্টিলের সরঞ্জামের কারণে এখন কামারশালায় মানুষ কম আসে। বাজারে এখন সবকিছুই রেডিমেড পাওয়া যায়। নিম্নমানের লোহার রেডিমেড দা, বঁটি কম দামে পেয়ে ক্রেতারা খুশি হলেও ভালো-মন্দের ফারাক বোঝেন না অনেকেই।
তপন রাজবংশী আরও বলেন, এ কাজে সারা বছর তেমন রুজি না থাকলেও এই ঈদের মৌসুমের আয় দিয়ে তারা সংসারের বড় খরচের ঘাটতি মেটান। তবে বর্তমানে কয়লার দাম বাড়ায় এবার তৈরি খরচ কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য চাহিদা বেশি থাকায় ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অর্ডার দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কামারশালায় আসা ক্রেতা মো. জমির উদ্দিন বলেন, “পোলায় বিদেশ থেকে কোরবানির যা যা লাগে সব পাঠাইছে। কিন্তু কয়েকটা বঁটি আর পুরাতন চাপাতিগুলো ধার দিতে কামারশালায় আসছি। বিদেশি জিনিস যত ভালোই হোক, আমাদের পাকা লোহার জিনিস ছাড়া ভালো লাগে না।”
আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, বছরের এই সময় দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দোকানে ভিড় একটু বেশি থাকে। তবে এই সব কিছুই ঈদের আনন্দের অংশ। তিনি বলেন, “চাইলে পারতাম আরও আগে কাজগুলো গুছিয়ে রাখতে, তবে শেষ মুহূর্তের এই উৎসবের আমেজ তখন পেতাম না।”


























