ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

নবাবগঞ্জের কামারপাড়া; দিনভর চলছে ‘টুং টাং’ শব্দ

সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 108

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত কয়লার ধোঁয়া, গনগনে লাল লোহা আর হাতুড়ি পেটানোর ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। একদিকে যেমন চলছে নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজ, অন্যদিকে পুরোনো হাতিয়ারে শান দেওয়ারও ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে সরঞ্জাম তৈরি ও শান দেওয়ার মজুরি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজারে এখন ছোট ছুরি তৈরিতে ২শ থেকে ২শ ৫০ টাকা, বঁটি ৪শ থেকে ৫শ টাকা, চাপাতি ৫শ থেকে ৭শ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি তৈরিতে ৭শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। বছরের অন্য সময়ে দৈনিক আয় ৫শ থেকে ৮শ টাকা হলেও, কোরবানির ঈদের আগে কামারদের দৈনিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।

উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার কারিগর তপন রাজবংশী জানান, পৈতৃক সূত্রে আমি এই কাজ করে আসছি। যখন শুরু করি তখন এ কাজের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিক স্টিলের সরঞ্জামের কারণে এখন কামারশালায় মানুষ কম আসে। বাজারে এখন সবকিছুই রেডিমেড পাওয়া যায়। নিম্নমানের লোহার রেডিমেড দা, বঁটি কম দামে পেয়ে ক্রেতারা খুশি হলেও ভালো-মন্দের ফারাক বোঝেন না অনেকেই।

তপন রাজবংশী আরও বলেন, এ কাজে সারা বছর তেমন রুজি না থাকলেও এই ঈদের মৌসুমের আয় দিয়ে তারা সংসারের বড় খরচের ঘাটতি মেটান। তবে বর্তমানে কয়লার দাম বাড়ায় এবার তৈরি খরচ কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য চাহিদা বেশি থাকায় ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অর্ডার দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কামারশালায় আসা ক্রেতা মো. জমির উদ্দিন বলেন, “পোলায় বিদেশ থেকে কোরবানির যা যা লাগে সব পাঠাইছে। কিন্তু কয়েকটা বঁটি আর পুরাতন চাপাতিগুলো ধার দিতে কামারশালায় আসছি। বিদেশি জিনিস যত ভালোই হোক, আমাদের পাকা লোহার জিনিস ছাড়া ভালো লাগে না।”
আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, বছরের এই সময় দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দোকানে ভিড় একটু বেশি থাকে। তবে এই সব কিছুই ঈদের আনন্দের অংশ। তিনি বলেন, “চাইলে পারতাম আরও আগে কাজগুলো গুছিয়ে রাখতে, তবে শেষ মুহূর্তের এই উৎসবের আমেজ তখন পেতাম না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

নবাবগঞ্জের কামারপাড়া; দিনভর চলছে ‘টুং টাং’ শব্দ

আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে এখন কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত কয়লার ধোঁয়া, গনগনে লাল লোহা আর হাতুড়ি পেটানোর ‘টুং টাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। একদিকে যেমন চলছে নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজ, অন্যদিকে পুরোনো হাতিয়ারে শান দেওয়ারও ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে সরঞ্জাম তৈরি ও শান দেওয়ার মজুরি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজারে এখন ছোট ছুরি তৈরিতে ২শ থেকে ২শ ৫০ টাকা, বঁটি ৪শ থেকে ৫শ টাকা, চাপাতি ৫শ থেকে ৭শ টাকা এবং পশু জবাইয়ের বড় ছুরি তৈরিতে ৭শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে খরচ হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। বছরের অন্য সময়ে দৈনিক আয় ৫শ থেকে ৮শ টাকা হলেও, কোরবানির ঈদের আগে কামারদের দৈনিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।

উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার কারিগর তপন রাজবংশী জানান, পৈতৃক সূত্রে আমি এই কাজ করে আসছি। যখন শুরু করি তখন এ কাজের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিক স্টিলের সরঞ্জামের কারণে এখন কামারশালায় মানুষ কম আসে। বাজারে এখন সবকিছুই রেডিমেড পাওয়া যায়। নিম্নমানের লোহার রেডিমেড দা, বঁটি কম দামে পেয়ে ক্রেতারা খুশি হলেও ভালো-মন্দের ফারাক বোঝেন না অনেকেই।

তপন রাজবংশী আরও বলেন, এ কাজে সারা বছর তেমন রুজি না থাকলেও এই ঈদের মৌসুমের আয় দিয়ে তারা সংসারের বড় খরচের ঘাটতি মেটান। তবে বর্তমানে কয়লার দাম বাড়ায় এবার তৈরি খরচ কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য চাহিদা বেশি থাকায় ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অর্ডার দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কামারশালায় আসা ক্রেতা মো. জমির উদ্দিন বলেন, “পোলায় বিদেশ থেকে কোরবানির যা যা লাগে সব পাঠাইছে। কিন্তু কয়েকটা বঁটি আর পুরাতন চাপাতিগুলো ধার দিতে কামারশালায় আসছি। বিদেশি জিনিস যত ভালোই হোক, আমাদের পাকা লোহার জিনিস ছাড়া ভালো লাগে না।”
আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, বছরের এই সময় দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দোকানে ভিড় একটু বেশি থাকে। তবে এই সব কিছুই ঈদের আনন্দের অংশ। তিনি বলেন, “চাইলে পারতাম আরও আগে কাজগুলো গুছিয়ে রাখতে, তবে শেষ মুহূর্তের এই উৎসবের আমেজ তখন পেতাম না।”