ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

বাউফলে পাশাপাশি পাঁচ কবর; স্বজনদের আহাজারিতে ভারী গ্রামের আকাশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 67

ছবি সংগৃহীত

 

নারায়ণগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে পটুয়াখালীর বাউফলের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের চিকিৎসাধীন অবস্থায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের কর্তা, তার স্ত্রী এবং তাদের তিন অবুঝ সন্তান। আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের বাড়িতে মা ও তিন সন্তানের মরদেহ এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহতরা হলেন—পরিবারের প্রধান কালাম মিয়া, তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নী (৯) এবং ছোট মেয়ে কথা (৭)। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবার প্রথমে মারা যান কালাম মিয়া, যাকে গত সোমবার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বাকি চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কালাম মিয়ার কবরের পাশেই তাদের দাফন করা হয়। একই সারিতে সাজানো পাঁচটি নতুন কবর দেখে উপস্থিত হাজারো মানুষ নির্বাক হয়ে পড়েন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালাম মিয়া দীর্ঘ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
গত ১০ মে ভোরে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে আগে থেকে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত স্ত্রী ও সন্তানসহ কালাম মিয়া গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নিহত কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ভাই বলেছিল আগামী কোরবানির ঈদে বাড়ি এসে নতুন ঘরের কাজ শেষ করে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রামেই থাকবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পুরো পরিবারটিই এখন লাশ হয়ে ফিরল।
এদিকে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনরা জানান, বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকার বিষয়টি ভবনের দারোয়ানকে আগেই জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সুুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাউফলে পাশাপাশি পাঁচ কবর; স্বজনদের আহাজারিতে ভারী গ্রামের আকাশ

আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

 

নারায়ণগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে পটুয়াখালীর বাউফলের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের চিকিৎসাধীন অবস্থায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের কর্তা, তার স্ত্রী এবং তাদের তিন অবুঝ সন্তান। আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের বাড়িতে মা ও তিন সন্তানের মরদেহ এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহতরা হলেন—পরিবারের প্রধান কালাম মিয়া, তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নী (৯) এবং ছোট মেয়ে কথা (৭)। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবার প্রথমে মারা যান কালাম মিয়া, যাকে গত সোমবার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বাকি চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কালাম মিয়ার কবরের পাশেই তাদের দাফন করা হয়। একই সারিতে সাজানো পাঁচটি নতুন কবর দেখে উপস্থিত হাজারো মানুষ নির্বাক হয়ে পড়েন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালাম মিয়া দীর্ঘ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
গত ১০ মে ভোরে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে আগে থেকে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত স্ত্রী ও সন্তানসহ কালাম মিয়া গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নিহত কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ভাই বলেছিল আগামী কোরবানির ঈদে বাড়ি এসে নতুন ঘরের কাজ শেষ করে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রামেই থাকবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পুরো পরিবারটিই এখন লাশ হয়ে ফিরল।
এদিকে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনরা জানান, বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকার বিষয়টি ভবনের দারোয়ানকে আগেই জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সুুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।