বিপৎসীমার ওপর বইছে ৭ নদীর পানি, ধেয়ে আসছে বন্যা
- আপডেট সময় ০৪:২১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 54
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সাতটি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সোমবার (৪ মে) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে প্রাক-মৌসুমি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সকাল ৯টার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর অন্তত ৮টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই, সোমেশ্বরী, মগরা এবং ভুগাই-কংশ নদীর পানিও বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে।
পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদী রেলব্রিজ পয়েন্টে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও জারিয়াঞ্জাইল এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি ও জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।






















