ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

উত্তর কোরিয়ার ডিজিটাল ডাকাতি: বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোচুরির ভয়াল ছায়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 443

ছবি সংগৃহীত

 

বিপুল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পিষ্ট উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বেছে নিয়েছে এক অভিনব পথ সাইবার ডাকাতি। দেশটির রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের হাতে এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো নিস্তার পাচ্ছে না।

২০২৪ সালে সাইবার অপরাধে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এমনটাই জানাচ্ছে গবেষণা সংস্থা চেইন্যালাইসিস। জাপানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, ডিএমএম বিটকয়েন ও ভারতের ওয়াজিরএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত চুরির ঘটনা ছিল বছরের আলোচিত ঘটনা। চুরি হওয়া অর্থ সরাসরি যাচ্ছে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে।

আরও পড়ুন  ইরানে ইসরাইলি হামলা ‘মানবতার বিরুদ্ধে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’: উত্তর কোরিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হ্যাকার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় উন্নত প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। তারা ‘পার্সোনাল কি’ হাতিয়ে নিয়ে ব্যবহারকারীদের ওয়ালেট খালি করছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল নিরাপত্তা বলয়।

চেইন্যালাইসিস জানায়, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা অন্তত ১৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। উন্নত ম্যালওয়্যার, সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং দূরবর্তী কাজের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার প্রশিক্ষিত আইটি কর্মীরা মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে বড় বড় কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে তথ্য চুরি করছে।

তাদের এই ডিজিটাল ডাকাতি এখন এতটাই বিস্তৃত যে, বিশ্বে কোনো দেশই আর নিরাপদ নয়। এমনকি বিখ্যাত বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকেও দেড় বিলিয়ন ডলারের চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। মার্কিন আদালত ইতোমধ্যেই দেশটির ১৪ নাগরিককে সাইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা দিয়েছে ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার।

বিশ্ব অর্থনীতিতে উত্তর কোরিয়ার এই ডিজিটাল হুমকি এখন জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। চেইন্যালাইসিসের মতে, এ সমস্যা মোকাবিলায় দরকার উন্নততর সাইবার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তর কোরিয়ার ডিজিটাল ডাকাতি: বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোচুরির ভয়াল ছায়া

আপডেট সময় ০৬:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

বিপুল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পিষ্ট উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বেছে নিয়েছে এক অভিনব পথ সাইবার ডাকাতি। দেশটির রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের হাতে এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো নিস্তার পাচ্ছে না।

২০২৪ সালে সাইবার অপরাধে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এমনটাই জানাচ্ছে গবেষণা সংস্থা চেইন্যালাইসিস। জাপানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, ডিএমএম বিটকয়েন ও ভারতের ওয়াজিরএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত চুরির ঘটনা ছিল বছরের আলোচিত ঘটনা। চুরি হওয়া অর্থ সরাসরি যাচ্ছে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে।

আরও পড়ুন  বেলুন, রশি আর জেদ, এই তিন দিয়েই ডুবন্ত যুদ্ধজাহাজ তুলল উত্তর কোরিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হ্যাকার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় উন্নত প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। তারা ‘পার্সোনাল কি’ হাতিয়ে নিয়ে ব্যবহারকারীদের ওয়ালেট খালি করছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল নিরাপত্তা বলয়।

চেইন্যালাইসিস জানায়, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা অন্তত ১৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। উন্নত ম্যালওয়্যার, সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং দূরবর্তী কাজের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার প্রশিক্ষিত আইটি কর্মীরা মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে বড় বড় কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে তথ্য চুরি করছে।

তাদের এই ডিজিটাল ডাকাতি এখন এতটাই বিস্তৃত যে, বিশ্বে কোনো দেশই আর নিরাপদ নয়। এমনকি বিখ্যাত বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকেও দেড় বিলিয়ন ডলারের চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। মার্কিন আদালত ইতোমধ্যেই দেশটির ১৪ নাগরিককে সাইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা দিয়েছে ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার।

বিশ্ব অর্থনীতিতে উত্তর কোরিয়ার এই ডিজিটাল হুমকি এখন জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। চেইন্যালাইসিসের মতে, এ সমস্যা মোকাবিলায় দরকার উন্নততর সাইবার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।