ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলায় ইয়েমেনে নিহত ১৩, উত্তপ্ত লোহিত সাগর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • / 284

ছবি সংগৃহীত

 

ইয়েমেনের হুতিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী সানায় চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার শুরু হওয়া এই হামলা কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা হুতিদের লোহিত সাগরে চলমান আক্রমণ বন্ধের প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হুতিরা যদি আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর ‘নরক বৃষ্টি’ নামিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে হুতিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। তেহরানকে দ্রুত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়, তবে আমেরিকা কঠোরভাবে এর জবাব দেবে, যা ইরানের জন্য মোটেও ভালো হবে না।”

আরও পড়ুন  মাদুরোকে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের বিনিময়ে সেফ এক্সিটের প্রস্তাব দিলো যুক্তরাষ্ট্র

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বাধ্য করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুতিদের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করাও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

হুতি রাজনৈতিক ব্যুরো যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ওয়াশিংটন ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশেও হামলা চালাতে পারে। এক বিবৃতিতে হুতিরা বলেছে, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী উসকানির জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সানায় হুতিদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া রয়টার্সকে বলেন, “ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছে, এতে আমাদের নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

হুতিরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহ বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়লেও, হুতিরা এখনো কার্যকরভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুতিদের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা শুরু করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল লোহিত সাগরে তাদের হামলার সক্ষমতা কমানো। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এবার ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে চলেছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলায় ইয়েমেনে নিহত ১৩, উত্তপ্ত লোহিত সাগর

আপডেট সময় ১১:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

 

ইয়েমেনের হুতিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী সানায় চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার শুরু হওয়া এই হামলা কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা হুতিদের লোহিত সাগরে চলমান আক্রমণ বন্ধের প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হুতিরা যদি আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর ‘নরক বৃষ্টি’ নামিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে হুতিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। তেহরানকে দ্রুত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়, তবে আমেরিকা কঠোরভাবে এর জবাব দেবে, যা ইরানের জন্য মোটেও ভালো হবে না।”

আরও পড়ুন  মাদুরোকে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের বিনিময়ে সেফ এক্সিটের প্রস্তাব দিলো যুক্তরাষ্ট্র

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বাধ্য করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুতিদের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করাও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

হুতি রাজনৈতিক ব্যুরো যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ওয়াশিংটন ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশেও হামলা চালাতে পারে। এক বিবৃতিতে হুতিরা বলেছে, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী উসকানির জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সানায় হুতিদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া রয়টার্সকে বলেন, “ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছে, এতে আমাদের নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

হুতিরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহ বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়লেও, হুতিরা এখনো কার্যকরভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুতিদের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা শুরু করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল লোহিত সাগরে তাদের হামলার সক্ষমতা কমানো। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এবার ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে চলেছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।