ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মঞ্চ থেকে মিডিয়া সর্বত্র বিচরণ রানা সিকদারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

মঞ্চনাটক, পথনাটক, আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ, অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনার মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রানা সিকদার। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নাট্যাঙ্গনে সক্রিয় আছেন।

অভিনয় দিয়ে শুরু করলেও এখন তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত। নাট্যনির্দেশনা, চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্র নির্মাণ, ভিডিও সম্পাদনা ও অডিওভিজ্যুয়াল প্রযোজনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন তিনি। মঞ্চনাটকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দৃশ্যশিল্পের অন্যান্য মাধ্যমেও কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

রানা সিকদারের নাট্যজীবনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। এই নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বিভিন্ন মঞ্চনাটক ও পথনাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আমিনা সুন্দরী’, ‘বলয়’ ও ‘মাধব মালঞ্চী’। পথনাটকের মধ্যে ‘জনম দুঃখী মা’, ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’ ও ‘জাল’-এ অংশ নিয়েছেন তিনি।

নাট্যনির্দেশনাতেও কাজ করেছেন রানা সিকদার। তাঁর নির্দেশিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হোস্টেল সুপার’, ‘রঙিন রূপবান’ ও ‘কথা রাখোনি’। এ ছাড়া ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’, ‘হারবাল মাসুদ’ ও ‘হোস্টেল সুপার’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

নাট্যচর্চার সুবাদে দেশের বাইরের মঞ্চেও অভিনয় করেছেন তিনি। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রযোজনা ‘মাধব মালঞ্চী’ নিয়ে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে অভিনয় করেন। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর, মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদন মঞ্চসহ কলকাতার বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি।

২০১৮ সালে ভারতের দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত থিয়েটার অলিম্পিকসে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মৎস্যকাম’ নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রানা সিকদার। ওই আয়োজনে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজকদের কাছ থেকে সনদ পান তিনি।

অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। ‘শেষ ছবি’ শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন রানা সিকদার। ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদও পান তিনি।

দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে ‘এথিক তারুণ্য সম্মাননা’ পান রানা সিকদার। দেশের ১৭টি নাট্য সংগঠনের ১৭ জন তরুণ নাট্যকর্মীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নামও ছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রানা সিকদার মঞ্চনাটক থেকে চলচ্চিত্র এবং অভিনয় থেকে নির্দেশনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান। তাঁর কাছে শিল্পচর্চা কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। গল্প, চরিত্র ও নির্মাণের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোই তাঁর লক্ষ্য।

আগামী দিনে টেলিভিশন নাটক, চলচ্চিত্র ও অডিওভিজ্যুয়াল নির্মাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। মঞ্চের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র ও নতুন নির্মাণের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল পরিচয় সমৃদ্ধ করতে চান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মঞ্চ থেকে মিডিয়া সর্বত্র বিচরণ রানা সিকদারের

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মঞ্চনাটক, পথনাটক, আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ, অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনার মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রানা সিকদার। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নাট্যাঙ্গনে সক্রিয় আছেন।

অভিনয় দিয়ে শুরু করলেও এখন তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত। নাট্যনির্দেশনা, চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্র নির্মাণ, ভিডিও সম্পাদনা ও অডিওভিজ্যুয়াল প্রযোজনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন তিনি। মঞ্চনাটকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দৃশ্যশিল্পের অন্যান্য মাধ্যমেও কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

রানা সিকদারের নাট্যজীবনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। এই নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বিভিন্ন মঞ্চনাটক ও পথনাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আমিনা সুন্দরী’, ‘বলয়’ ও ‘মাধব মালঞ্চী’। পথনাটকের মধ্যে ‘জনম দুঃখী মা’, ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’ ও ‘জাল’-এ অংশ নিয়েছেন তিনি।

নাট্যনির্দেশনাতেও কাজ করেছেন রানা সিকদার। তাঁর নির্দেশিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হোস্টেল সুপার’, ‘রঙিন রূপবান’ ও ‘কথা রাখোনি’। এ ছাড়া ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’, ‘হারবাল মাসুদ’ ও ‘হোস্টেল সুপার’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

নাট্যচর্চার সুবাদে দেশের বাইরের মঞ্চেও অভিনয় করেছেন তিনি। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রযোজনা ‘মাধব মালঞ্চী’ নিয়ে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে অভিনয় করেন। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর, মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদন মঞ্চসহ কলকাতার বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি।

২০১৮ সালে ভারতের দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত থিয়েটার অলিম্পিকসে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মৎস্যকাম’ নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রানা সিকদার। ওই আয়োজনে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজকদের কাছ থেকে সনদ পান তিনি।

অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। ‘শেষ ছবি’ শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন রানা সিকদার। ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদও পান তিনি।

দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে ‘এথিক তারুণ্য সম্মাননা’ পান রানা সিকদার। দেশের ১৭টি নাট্য সংগঠনের ১৭ জন তরুণ নাট্যকর্মীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নামও ছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রানা সিকদার মঞ্চনাটক থেকে চলচ্চিত্র এবং অভিনয় থেকে নির্দেশনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান। তাঁর কাছে শিল্পচর্চা কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। গল্প, চরিত্র ও নির্মাণের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোই তাঁর লক্ষ্য।

আগামী দিনে টেলিভিশন নাটক, চলচ্চিত্র ও অডিওভিজ্যুয়াল নির্মাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। মঞ্চের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র ও নতুন নির্মাণের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল পরিচয় সমৃদ্ধ করতে চান তিনি।