ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আরবদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী জোটের এই নেতা। তবে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে তাঁর সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের আপত্তি রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো।

ফলাফল স্পষ্ট হলেও সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আরও পড়ুন  শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

তবে সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। বিরোধীদের সবাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি নয়।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বৈঠকে আব্বাস হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানান এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকার গঠনে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা। আগামী নেসেটে দলটির ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। ফলে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আরবদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী জোটের এই নেতা। তবে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে তাঁর সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের আপত্তি রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো।

ফলাফল স্পষ্ট হলেও সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি দেখে বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

তবে সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। বিরোধীদের সবাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি নয়।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বৈঠকে আব্বাস হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানান এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকার গঠনে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা। আগামী নেসেটে দলটির ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। ফলে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।