গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় ০৯:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 32
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখতে এবং ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আগামীকাল ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের স্বার্থ, সামাজিক সাম্য, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে সিপাহি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই সময় স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায় বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
সিপাহি-জনতার ঐক্যকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি বিশেষ জাগরণ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী বরাবরই ঐক্য ও সংহতির পরিচয় দিয়েছে। একই চেতনার প্রতিফলন দেখা যায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পরাধীনতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হয়েছে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিস্তার ঘটেছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।




















