রাঙ্গামাটি সাজেকে দুই পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ শিশু
- আপডেট সময় ১১:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির সাজেকে পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস এর মধ্যে খেমে খেমে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসময় কস্মিতা ত্রিপুরা(৮) নামে এক মেয়ে শিশু বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও গুলি বের করার পর শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার জন্য জেএসএসকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা। তার দাবি খেমে খেমে এই বন্দুকযুদ্ধে ‘বারো’ শ থেকে পনেরো’ শ গুলি ছোড়া হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে সাজেকের মাচালং নোয়াপাড়া ও হাজাছড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় দুই পক্ষ পাহাড়ি সন্ত্রাসী দলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ কস্মিতা ত্রিপুরা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মন্দিরছড়া গ্রামের বাসিন্দা উলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, -পাহাড়ি সংগঠন প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-(ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-(জেএসএস) এর শীর্ষ গ্রুপ বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণ আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গেল এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যমান দুই পক্ষের মধ্যে খেমে খেমে গোলাগুলি চলে আসছে।
সবশেষ আজ সকালেও আবারও সেই বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে গ্রামবাসী ওই মেয়ে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। অবশ্য গুলিবিদ্ধ শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত গুলি অপসারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় সে এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে সাজেক থানা পুলিশ।
গোলাগুলি ও শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করেছেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা। আজ মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তুলেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন -“আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাচালংয়ের নোয়াপাড়া ও হাজাছড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় একটি পাহাড়কে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে সন্তু গ্রুপের শস্ত্র জুম্ম লিবারেশন আর্মি। স্থানীয়রা এই গুলির বর্ষণের ঘটনায় চলমান ধর্মযুদ্ধ ভেবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরে নিশ্চিত হয়ে যায়,
সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএলএ সদস্যরা নিজেরাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লক্ষ্যহীনভাবে গুলি ছুড়েছিল।”
অবশেষে ঘটনার জন্য দায়ী করে ইউপিডিএফের অভিযোগের বিষয়ে জনসংহতি সমিতি-জেএসএস-এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকালে পাহাড়ি দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন- গোলাগুলিতে এক মেয়ে শিশু বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে শিশুটির হাত থেকে গুলি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে সে সুস্থ আছে ।

























