ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগে নতুন ওষুধ
- আপডেট সময় ১০:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
ডায়াবেটিসের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম জটিলতা ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমার (ডিএমই) চিকিৎসায় নতুন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি মার্কের তৈরি রেমিগ্রোমিগ (MK-3000) প্রাথমিক পর্যায়ের বড় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রচলিত চিকিৎসা রানিবিজুমাবের তুলনায় কার্যকারিতায় পিছিয়ে নেই বলে পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে।
মার্কের ফেজ ২বি/৩ পর্যায়ের BRUNELLO পরীক্ষায় ৫২ সপ্তাহের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া যায়। এতে ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমায় আক্রান্ত ৯৮৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের রেমিগ্রোমিগের ০.৫ মিলিগ্রাম বা ০.৮ মিলিগ্রাম ডোজ অথবা প্রচলিত চিকিৎসা রানিবিজুমাব দেওয়া হয়।
রেমিগ্রোমিগ একটি পরীক্ষামূলক ‘ট্রাই-স্পেসিফিক অ্যান্টিবডি’। এটি শরীরের Wnt সিগন্যালিং পথ সক্রিয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। রক্তনালি ও রেটিনার মধ্যকার সুরক্ষাব্যবস্থা, যাকে ব্লাড-রেটিনাল ব্যারিয়ার বলা হয়, তা বজায় রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরুদ্ধারে এই সিগন্যালিং পথ ভূমিকা রাখে।
ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমার ক্ষেত্রে রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে রেটিনায় জমা হয়। এতে চোখের রেটিনার মাঝের অংশ ম্যাকুলা ফুলে যায়। সূক্ষ্ম ও পরিষ্কার দৃষ্টির জন্য ম্যাকুলা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ফোলা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
মার্কের গবেষকেরা দেখতে চাচ্ছেন, Wnt সিগন্যালিং পথ সক্রিয় করার মাধ্যমে রক্ত-রেটিনা প্রতিবন্ধক পুনরুদ্ধার করা এবং রক্তনালি থেকে তরল বের হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব কি না।
৫২ সপ্তাহের পরীক্ষার ফলাফলে রেমিগ্রোমিগের ০.৫ ও ০.৮ মিলিগ্রাম—দুই ডোজই পরীক্ষার প্রধান কার্যকারিতা লক্ষ্য পূরণ করেছে। দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের হিসাবে দুই ডোজই ০.৫ মিলিগ্রাম রানিবিজুমাবের তুলনায় নির্ধারিত সীমার মধ্যে কার্যকারিতায় পিছিয়ে ছিল না।
মার্ক জানিয়েছে, উভয় ডোজই সাধারণভাবে রোগীরা সহ্য করতে পেরেছেন। তবে রানিবিজুমাব গ্রহণকারীদের তুলনায় রেমিগ্রোমিগ গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রোলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, চোখের ভেতরের ভিট্রিয়াসে রক্তক্ষরণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করার হার বেশি দেখা গেছে।
ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমা ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর জটিলতা। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে তরল রেটিনায় বের হয়ে জমতে পারে। এতে ম্যাকুলা ফুলে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে ডিএমইর চিকিৎসায় অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এসব চিকিৎসা অস্বাভাবিক রক্তনালির বৃদ্ধি এবং রক্তনালি থেকে তরল বের হওয়া কমাতে সহায়তা করে।
তবে মার্কের হিসাবে, বর্তমান চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাড়া পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এ কারণে ডিএমইর চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: সামা টিভি
























