ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুস্থ থাকতে পাতে থাকুক ঝাল; ঝাল খাওয়ার চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

বাঙালির রসনাবিলাসে ঝাল ছাড়া যেন তৃপ্তি মেলাই ভার। ফুচকা থেকে শুরু করে ঘরোয়া তরকারি—সবকিছুতেই মরিচের উপস্থিতি অপরিহার্য। তবে কেবল স্বাদের জন্যই নয়, ঝাল খাবারে রয়েছে এমন কিছু বিস্ময়কর স্বাস্থ্যগুণ যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক প্রতিবেদনে ঝাল খাবারের বৈজ্ঞানিক উপকারিতার নানা দিক উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, মরিচে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ নামক উপাদানটি শরীরের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। যারা সপ্তাহে অন্তত ৬-৭ দিন মাঝারি মাত্রার ঝাল খাবার খান, তাঁদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া প্রোস্টেট ক্যানসারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধির কোষ ধ্বংসেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ঝাল খাবার পাকস্থলীতে পিত্তরসের ক্ষরণ বাড়ায়, যা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে। একই সাথে এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডায়াবেটিস মোকাবিলায় সহায়ক হয়।

মরিচযুক্ত খাবার খেলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা উপশমের পাশাপাশি মনে এক ধরণের সুখের অনুভূতিও তৈরি করে। এছাড়াও এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝাল খাবারের উপকারিতা থাকলেও তা গ্রহণের মাত্রা ও ধরনের ওপর নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল পাকস্থলীর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পরিমিত ঝাল খাওয়ার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুস্থ থাকতে পাতে থাকুক ঝাল; ঝাল খাওয়ার চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

আপডেট সময় ১১:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির রসনাবিলাসে ঝাল ছাড়া যেন তৃপ্তি মেলাই ভার। ফুচকা থেকে শুরু করে ঘরোয়া তরকারি—সবকিছুতেই মরিচের উপস্থিতি অপরিহার্য। তবে কেবল স্বাদের জন্যই নয়, ঝাল খাবারে রয়েছে এমন কিছু বিস্ময়কর স্বাস্থ্যগুণ যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক প্রতিবেদনে ঝাল খাবারের বৈজ্ঞানিক উপকারিতার নানা দিক উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, মরিচে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ নামক উপাদানটি শরীরের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। যারা সপ্তাহে অন্তত ৬-৭ দিন মাঝারি মাত্রার ঝাল খাবার খান, তাঁদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া প্রোস্টেট ক্যানসারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধির কোষ ধ্বংসেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ঝাল খাবার পাকস্থলীতে পিত্তরসের ক্ষরণ বাড়ায়, যা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে। একই সাথে এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডায়াবেটিস মোকাবিলায় সহায়ক হয়।

মরিচযুক্ত খাবার খেলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা উপশমের পাশাপাশি মনে এক ধরণের সুখের অনুভূতিও তৈরি করে। এছাড়াও এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝাল খাবারের উপকারিতা থাকলেও তা গ্রহণের মাত্রা ও ধরনের ওপর নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল পাকস্থলীর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পরিমিত ঝাল খাওয়ার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।