ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ন্যাম ভবনে বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম: পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 50

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তার শয়নকক্ষের পাশের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে ন্যাম ভবনের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো—জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এমনটাই উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, মরিয়মের বাবা তার আত্মীয়। ঢাকায় এলে তিনি মরিয়মের বাবার বাসায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে সংসদীয় কাজ পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনে সব পুলিশ সদস্যকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, পরে গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতিতে মরিয়মকে বিয়ে করেন গাজী নজরুল। পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় তাদের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। সেখানে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে থাকার সময় মরিয়ম মাঝে মাঝে তার শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গাজী নজরুল।

আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার ঘটনা সম্পর্কে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ১৯ বছর। ওই রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ন্যাম ভবনে বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম: পুলিশ

আপডেট সময় ১০:২০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তার শয়নকক্ষের পাশের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে ন্যাম ভবনের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো—জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এমনটাই উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, মরিয়মের বাবা তার আত্মীয়। ঢাকায় এলে তিনি মরিয়মের বাবার বাসায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে সংসদীয় কাজ পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনে সব পুলিশ সদস্যকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, পরে গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতিতে মরিয়মকে বিয়ে করেন গাজী নজরুল। পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় তাদের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। সেখানে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে থাকার সময় মরিয়ম মাঝে মাঝে তার শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গাজী নজরুল।

আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার ঘটনা সম্পর্কে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ১৯ বছর। ওই রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।