মিউজ চালুর পর রেকর্ড উচ্চতায় মেটার শেয়ার
- আপডেট সময় ০৬:১২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 27
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী বা এজেন্ট ‘মিউজ’ চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার শেয়ারের দামে বড় উত্থান হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিউজ নিয়ে আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের বাইরে নতুন আয়ের সম্ভাবনাও শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মেটার শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে সোমবার এক দিনেই শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি বাড়ে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ উত্থান।
বর্তমানে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭৭৮ ডলার। এর আগে মার্চের শেষ দিকে শেয়ারটির দাম প্রায় ৫২৫ ডলারে নেমে গিয়েছিল। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রভাব নিয়ে দুটি আদালতের রায়ের পর ওই দরপতন হয়।
জুলাইয়ের শেষ দিকেও মেটার শেয়ারে পতন দেখা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগের কারণে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ওই দরপতন হয়েছিল। চলতি বছর এআই খাতে মেটার ব্যয় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মেটার আয়ের প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞাপননির্ভর। ফলে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুবিধা পাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এর মধ্যেই গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর কানাডায় মিউজ চালু করা হয়। বর্তমানে এই দুই দেশেই এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।
মিউজকে বহুমুখী এআই সহকারী বা ‘এজেন্ট’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্যবহারকারীর হয়ে ভ্রমণের বুকিং দেওয়া, ই-মেইল পাঠানো এবং অনলাইনে কেনাকাটার মতো বিভিন্ন কাজ করতে পারে।
শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মিউজ উন্মুক্ত। বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এতে ব্যবহারের সীমা রয়েছে। বেশি ব্যবহারের জন্য মাসে ২০ ডলার ও ১০০ ডলারের দুটি ঐচ্ছিক সাবস্ক্রিপশন সুবিধা রাখা হয়েছে।
অ্যাপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চালুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় আইফোনে মিউজ ১৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। একই সময়ের হিসাবে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ২০২৩ সালের মে মাসে অ্যাপ হিসেবে চালুর পর ১৩ লাখ ডাউনলোড হয়েছিল।
বুধবার মেটার বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে কোম্পানিটি জানায়, শিগগিরই মিউজ তাদের স্মার্ট চশমাতেও ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথাও জানিয়েছে মেটা। এর মাধ্যমে মিউজ ব্যবহার করে করা কেনাকাটা থেকে কমিশন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন রোববার মিউজকে তাদের ওয়েবসাইট ব্যবহারে বাধা দিয়েছে। অ্যামাজনের অভিযোগ, মেটার এআই এজেন্ট ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে এআই এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়নি এবং গ্রাহকদের লগইন তথ্য সংরক্ষণ করেছে।
মেটা অবশ্য বলেছে, মিউজ ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের তথ্য দেখতে পায় না।
বৃহস্পতিবার বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান মেটার শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৯২০ ডলার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মিউজ ‘চ্যাটজিপিটির পর ভোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এআই অ্যাপ্লিকেশন’ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকজন বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করেছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনহাইমারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অন্য অ্যাপের পাসওয়ার্ড মেটার কাছে সংরক্ষণ করতে আস্থা রাখেন। অথচ ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে এ ধরনের এআই সহকারীর এসব তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। একই জরিপে গুগলের ক্ষেত্রে আস্থার হার ছিল ৩০ শতাংশ।
মিউজের সম্ভাব্য প্রসারে মেটার বড় ব্যবহারকারীভিত্তি ভূমিকা রাখতে পারে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন ৩৬০ কোটির বেশি মানুষ সক্রিয় থাকেন।
এর আগে ২০২৩ সালে মেটা থ্রেডস চালু করে। ইলন মাস্ক টুইটার কেনার কয়েক মাস পর এক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়।
চালুর মাত্র পাঁচ দিনে থ্রেডসে ১০ কোটি সাইনআপ হলেও পরে এর প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে থ্রেডসের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ১৪ কোটি।


























