অপ্রতিম হত্যায় ফোনকলের সূত্রে নতুন তথ্য
- আপডেট সময় ০৩:১৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 37
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
মামলার এক আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইল ফোনে আসা একের পর এক কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইফোন নেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য জানান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও পুলিশ জানত না অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।
তদন্তকারীরা জানান, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তবে অন্যদের নাম জানাতে সে রাজি হয়নি। অন্যদের নাম প্রকাশ না করার জন্য সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের মোবাইল ফোনে বারবার কল আসছিল। অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর ওই ফোনে কল করছিল। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে ওই কিশোরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তার পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা একটি টি-শার্ট।
পরে তুহিন আরেকজনের নাম জানালে তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত। অপ্রতিমের কাছ থেকে সে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অপ্রতিমের ওপর ওই কিশোরের বিরক্তি ছিল। অপ্রতিম মারা গেলে ওই টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তা থেকেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
ড. কামরুন নাহাত শীলা জানান, গ্রেফতার কিশোরটি ঘটনার ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার দোকানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিল।
এদিকে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ড. কামরুন নাহাত শীলা বলেন, নাহিদা বেগম চান পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক—আগের ওই ঘটনার প্রতিশোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে শনিবার বেলা ১টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

























