ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ রেলকর্মী বরখাস্তের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেনের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্টেশন এলাকা ঘেরাও করেন।

আরও পড়ুন  সুবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম, ক্লাস বর্জনের হুঁশিয়ারি

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্টেশনের কাচ, আসবাব ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুরের কথা উঠে এসেছে।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে স্টেশনে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

আইয়ুব আলী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই স্টেশন ও ট্রেনে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির শিকার হন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা স্টেশনে অবস্থান করেন। পরে শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তারা ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্টেশনে অবরুদ্ধ রেলকর্মীদের পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিবিড় তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও তদন্ত করছে রেলওয়ের চার সদস্যের কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ রেলকর্মী বরখাস্তের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আপডেট সময় ০২:২৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেনের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্টেশন এলাকা ঘেরাও করেন।

আরও পড়ুন  শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্টেশনের কাচ, আসবাব ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুরের কথা উঠে এসেছে।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে স্টেশনে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

আইয়ুব আলী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই স্টেশন ও ট্রেনে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির শিকার হন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা স্টেশনে অবস্থান করেন। পরে শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তারা ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্টেশনে অবরুদ্ধ রেলকর্মীদের পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিবিড় তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও তদন্ত করছে রেলওয়ের চার সদস্যের কমিটি।