ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
‘আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন’, তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাস স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬ ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁস, পেন্টাগনে ৫০ জনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা ‘মায়ের মূর্ত প্রতীক’ খালেদা জিয়া: ভূমিমন্ত্রী কবর থেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন, শামীমের মরদেহ দাফন হলো তিনবার কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা পাঁয়তারা চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সিডনিতে শাবনূর-তাসকিনের জমজমাট বারবিকিউ আড্ডা এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ; মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল রংপুর মেডিকেলে এক মাসে কাটবে আইসিইউ সংকট: ত্রাণমন্ত্রী নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

ফেনীর দাগনভূঞায় এক অটোরিকশাচালককে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আরও পড়ুন  নীলফামারীতে প্রতিমা ভাঙচুর, একজন গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ রাজ (১৯), লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা এলাকার জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১), ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরের মো. হারুনের ছেলে আব্দুল মন্নান মুন্না (২৯), সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯) এবং পৌর এলাকার উত্তর করিমপুর গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই অটোরিকশাচালক চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১১টার দিকে তারা দাগনভূঞা বাজারে পৌঁছালে অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ কমে যায়। পরে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বন্ধুর সহায়তায় পৌর শহরের ফাজিলের ঘাট রোডের একটি গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জে দেওয়া হয়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী পাশের একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। পরে স্বামী-স্ত্রীকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ব্যক্তিরা স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে নেন। একই সময় তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা জোগাড়ের জন্য ভুক্তভোগী দম্পতি স্বজনদের ফোন করলে তারা টাকা না পাঠিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। এর আগেও তিনি চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশা চালিয়ে নোয়াখালীর বাড়িতে যাতায়াত করেছেন। শুক্রবার রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একইভাবে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট সময় ১২:৩৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ফেনীর দাগনভূঞায় এক অটোরিকশাচালককে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আরও পড়ুন  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তারে অনুমতি ৩ মাসের জন্য স্থগিত

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ রাজ (১৯), লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা এলাকার জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১), ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরের মো. হারুনের ছেলে আব্দুল মন্নান মুন্না (২৯), সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯) এবং পৌর এলাকার উত্তর করিমপুর গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই অটোরিকশাচালক চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১১টার দিকে তারা দাগনভূঞা বাজারে পৌঁছালে অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ কমে যায়। পরে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বন্ধুর সহায়তায় পৌর শহরের ফাজিলের ঘাট রোডের একটি গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জে দেওয়া হয়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী পাশের একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। পরে স্বামী-স্ত্রীকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ব্যক্তিরা স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে নেন। একই সময় তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা জোগাড়ের জন্য ভুক্তভোগী দম্পতি স্বজনদের ফোন করলে তারা টাকা না পাঠিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। এর আগেও তিনি চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশা চালিয়ে নোয়াখালীর বাড়িতে যাতায়াত করেছেন। শুক্রবার রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একইভাবে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।