ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতা অভিনয় প্রতিভা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের এমন অবস্থান তৈরি করেন, যা মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পরও অম্লান।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের নায়ক হলেও উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা বহু আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশে। দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভালোবাসার এক অনন্য নাম। তার অভিনীত সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি কলকাতার চলচ্চিত্র পূর্ব পাকিস্তানে প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার দর্শকেরা উত্তম-সুচিত্রা জুটির একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা দেখেছেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দর্শকের কাছে উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে।

পর্দায় তার স্বতন্ত্র হাসি, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন, ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ের সাবলীলতা কয়েক দশক পেরিয়েও দর্শকের কাছে আবেদন ধরে রেখেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জুটির প্রসঙ্গ উঠলে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের নাম সবার আগে আসে। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ ও ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো চলচ্চিত্র দুই বাংলার দর্শকের কাছে এখনও স্মরণীয়।

তবে উত্তম কুমারের অভিনয়জীবন শুধু রোমান্টিক নায়কের চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের বহুমাত্রিক অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ এবং তপন সিংহের ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার ব্যাপ্তি তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন উত্তম কুমার। সংগীতচর্চাতেও ছিল তার আগ্রহ ও সৃজনশীল উপস্থিতি।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মারা যান উত্তম কুমার। তার মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি এই মহানায়কের।

জন্মশতবর্ষে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও অসংখ্য অনুরাগী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক

আপডেট সময় ০২:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতা অভিনয় প্রতিভা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের এমন অবস্থান তৈরি করেন, যা মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পরও অম্লান।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের নায়ক হলেও উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা বহু আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশে। দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভালোবাসার এক অনন্য নাম। তার অভিনীত সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি কলকাতার চলচ্চিত্র পূর্ব পাকিস্তানে প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার দর্শকেরা উত্তম-সুচিত্রা জুটির একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা দেখেছেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দর্শকের কাছে উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে।

পর্দায় তার স্বতন্ত্র হাসি, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন, ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ের সাবলীলতা কয়েক দশক পেরিয়েও দর্শকের কাছে আবেদন ধরে রেখেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জুটির প্রসঙ্গ উঠলে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের নাম সবার আগে আসে। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ ও ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো চলচ্চিত্র দুই বাংলার দর্শকের কাছে এখনও স্মরণীয়।

তবে উত্তম কুমারের অভিনয়জীবন শুধু রোমান্টিক নায়কের চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের বহুমাত্রিক অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ এবং তপন সিংহের ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার ব্যাপ্তি তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন উত্তম কুমার। সংগীতচর্চাতেও ছিল তার আগ্রহ ও সৃজনশীল উপস্থিতি।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মারা যান উত্তম কুমার। তার মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি এই মহানায়কের।

জন্মশতবর্ষে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও অসংখ্য অনুরাগী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে।