ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা করবে বিএসটিআই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15

ছবি সংগৃহীত

 

টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাইয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব উপাদান নিয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  দেশের বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস কিংবা এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে জন্য বিএসটিআই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।

কমিটির প্রত্যক্ষ তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধাও বিএসটিআইয়ের কাছে ছিল না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

এ ছাড়া পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের জন্য স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা করবে বিএসটিআই

আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাইয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব উপাদান নিয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  দেশের বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস কিংবা এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে জন্য বিএসটিআই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।

কমিটির প্রত্যক্ষ তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধাও বিএসটিআইয়ের কাছে ছিল না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

এ ছাড়া পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের জন্য স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।