ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা পুতিনের, ‘হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় ০৭:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেছেন, রাশিয়াকে ‘গিলে খেতে’ চাইলে পশ্চিমা শক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠক চলাকালে এবং এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন। ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক এই জোটের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার নানা দিক নিয়ে কথা বলেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও জানান পুতিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’
পুতিনের ভাষ্য, ট্রাম্পের ওই দুই বিশেষ দূতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আস্থা রয়েছে এবং তারা সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তার ভাষায়, ‘তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মানুষ।’
এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো যান। সেখানে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। এর পরই উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে পুতিনের এই মন্তব্য সামনে এলো।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের যোগাযোগ ‘কিছুটা হলেও স্থগিত’ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশকেকে পুতিনের বক্তব্যের সময় ইউক্রেন যুদ্ধ আরও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর হামলা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান জানান পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রুশ বাহিনীকে।
পুতিনের দাবি, এসব হামলার ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না। এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পুতিন সেটিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’
এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নতুন করে সেনা নিয়োগ বা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এ নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুতিন এ ধরনের আশঙ্কাকে ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার এসসিও বৈঠকের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। সেখানে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের ‘সাহস ও দৃঢ়তার’ প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যও তেহরানকে দিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে। বিশকেকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও ইরানকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পুতিন পরে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সোভিয়েত আমলের একটি উপমা টানেন। তিনি বলেন, সে সময় পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।
পুতিন বলেন, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলে নিচে নামিয়ে দিতে, গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা ‘দাঁতভাঙা জবাব’ পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়াও এর জন্য প্রস্তুত।






















