ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
যুদ্ধের খরচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা বলছে: গালিবাফ নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭৩৪, আবারও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা শপথ নিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে হাবিবুল গনি সাবেক আইজিপি ও আইন কমিশনের সদস্য এম. এনামুল হকের মৃত্যু মালয়েশিয়ায় যাবেন বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের সেতু পারা পারে নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানে তুর্কি সামরিক বিমানের আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত শেষ উইকেটের আক্ষেপে বাংলাদেশ, ফাইনাল হাতছাড়া চার গোল মেসির, ৭-১ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি নেপালে বন্যায় ৬৭৫ জনের মৃত্যু, এখনও নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭৩৪, আবারও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

ছবি:সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভোটেকোশী নদীতে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করায় দেশটির কয়েকটি জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়ে চারটি জেলায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে বন্যার ভয়াবহতার মধ্যে পড়েন।

আরও পড়ুন  নেপাল ও বাংলাদেশের জেন-জি রাজনীতির ভিন্নতা: বিবিসির বিশ্লেষণ

নদীর পানি বাড়ায় রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় এসব অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ভেঙে সৃষ্ট আকস্মিক পানির ঢল বুধবার সকালে নেপালের নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে আসে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদামাটি ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে বহু গ্রাম, ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় পুরু কাদার স্তর জমে আছে। সেই কাদার মধ্য থেকেই উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগের পর শুরুতে বিদেশি সহায়তা নিতে অনাগ্রহী থাকলেও পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণে সম্মতি দেয় নেপাল। এরপর ভারত থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণও পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ভোটেকোশী নদীতে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ ভেঙে পাহাড়ি এলাকায় একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেটি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে পানি উপচে নিচের দিকে নেমে ফের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করতে পারে।

ফলে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকির মধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭৩৪, আবারও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় ০১:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভোটেকোশী নদীতে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করায় দেশটির কয়েকটি জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়ে চারটি জেলায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে বন্যার ভয়াবহতার মধ্যে পড়েন।

আরও পড়ুন  নেপালের কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মিছিল, রাজনীতির প্রতি হতাশ জনতা

নদীর পানি বাড়ায় রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় এসব অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ভেঙে সৃষ্ট আকস্মিক পানির ঢল বুধবার সকালে নেপালের নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে আসে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদামাটি ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে বহু গ্রাম, ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় পুরু কাদার স্তর জমে আছে। সেই কাদার মধ্য থেকেই উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগের পর শুরুতে বিদেশি সহায়তা নিতে অনাগ্রহী থাকলেও পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণে সম্মতি দেয় নেপাল। এরপর ভারত থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণও পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ভোটেকোশী নদীতে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ ভেঙে পাহাড়ি এলাকায় একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেটি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে পানি উপচে নিচের দিকে নেমে ফের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করতে পারে।

ফলে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকির মধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।