ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল; নিহত ৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 22

ছবি সংগৃহীত

 

নেপালে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য জেলা রাসুয়া ও নুয়াকোট-এর একাধিক গ্রাম ভেসে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ৩৩ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপালি নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে কোনো পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই হঠাৎ করে নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই সায়াপ্রু বেসি এবং রাসুয়া জেলার তিমুরে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় বাজার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।

আরও পড়ুন  সার্ক কার্যকর করতে একমত, বাংলাদেশ-নেপাল

স্থানীয়রা জানান, বন্যার স্রোতে চীন ও নেপালকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘মিতেরি সেতু’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া পাসাং লামু মহাসড়কের বিশাল অংশ পানির স্রোতে ধসে পড়ায় রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র উপ-মহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে নেপালি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাদিঙ জেলা থেকে এ পর্যন্ত আট জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক আরও জানান, রাসুয়া জেলায় পুলিশের অন্তত ২৬ জন সদস্যের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সশস্ত্র বাহিনীও জানিয়েছে যে তাদের সাতজন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়া এই আকস্মিক বন্যা নেপালের জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত অন্তত ৬টি বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন বন্যার কারণে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

বন্যার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরী উদ্ধার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো সঠিক সময়ে অবতরণ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে ত্রিশূলী ও ভোতেকোশি নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল; নিহত ৮

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপালে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য জেলা রাসুয়া ও নুয়াকোট-এর একাধিক গ্রাম ভেসে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ৩৩ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপালি নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে কোনো পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই হঠাৎ করে নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই সায়াপ্রু বেসি এবং রাসুয়া জেলার তিমুরে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় বাজার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।

আরও পড়ুন  পাহাড়ি ঢলে টইটম্বুর সোমেশ্বরী নদী, শঙ্কায় কৃষকেরা

স্থানীয়রা জানান, বন্যার স্রোতে চীন ও নেপালকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘মিতেরি সেতু’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া পাসাং লামু মহাসড়কের বিশাল অংশ পানির স্রোতে ধসে পড়ায় রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র উপ-মহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে নেপালি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাদিঙ জেলা থেকে এ পর্যন্ত আট জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক আরও জানান, রাসুয়া জেলায় পুলিশের অন্তত ২৬ জন সদস্যের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সশস্ত্র বাহিনীও জানিয়েছে যে তাদের সাতজন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়া এই আকস্মিক বন্যা নেপালের জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত অন্তত ৬টি বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন বন্যার কারণে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

বন্যার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরী উদ্ধার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো সঠিক সময়ে অবতরণ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে ত্রিশূলী ও ভোতেকোশি নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি