জেমিনির এআই কনটেন্টের ওয়াটারমার্ক সরাবে গুগল
- আপডেট সময় ১১:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও ও গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিতে নতুন সেটিং চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান চিহ্ন সরিয়ে ফেলা গেলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।
নতুন এ সুবিধার আওতায় ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে সুবিধাটি চালু হয়েছে। শিগগির গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।
শুধু ছবি নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের দৃশ্যমান ওয়াটারমার্কও সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও ব্যবহারকারীরা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন।
তবে এ সুবিধা সব দেশ বা অঞ্চলে পাওয়া যাবে না। গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়া হবে না।
দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্টের গোপন শনাক্তকারী অপসারণ করবে না গুগল। কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।
গুগলের দাবি, দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক না থাকলেও কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে কোনো ছবি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেও সেটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না জানতে পারবেন।
জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। ফলে কনটেন্টে দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন না থাকলেও এর পেছনে থাকা প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে সেটি এআই-নির্মিত কি না শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।
এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট সহজে শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ ধরনের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদারের চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে চান। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধার পাশাপাশি গোপন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বহাল রাখার মাধ্যমে দুই ধরনের ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।


























