জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে টাইফুন ডলফিন
- আপডেট সময় ০৬:২২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 18
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব চালানোর পর পূর্ব চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। ঝড়ের আঘাতে ওকিনাওয়া ও কাগোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৫০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ও ভবনে। ঝড়ের প্রভাবে জাপান, চীন ও তাইওয়ানে বিমান ও নৌ চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাপানে আঘাত হানার পর টাইফুনটি পূর্ব চীনের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ডলফিন। ওই সময় ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার ক্ষেত্রে তা ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছিল।
ঝড়ের প্রভাবে ওকিনাওয়া ও কাগোশিমায় পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি প্রবল বাতাসে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার ভবন এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছে।
ঝড়ের কারণে জাপানের এএনএ ও জাপান এয়ারলাইন্স ওকিনাওয়াগামী এবং ওকিনাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ডলফিনের নামকরণ করা হয়েছে হংকংয়ের জাতীয় প্রাণী চাইনিজ হোয়াইট ডলফিনের নামে। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝুশান শহর থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুডিং শহরের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় ডলফিন স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন সরকার তৃতীয় স্তরের জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং কমলা সতর্কসংকেত দিয়েছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশও উপকূলীয় সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সাংহাই ও আশপাশের এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত এবং প্রবল ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববারের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বন্দরগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
নিংবো শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি পানিতে অনুষ্ঠিত কার্যক্রমও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানেও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। প্রায় ৭৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও শনিবার পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে টাইফুনের পরিস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।
তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ চীনের এ নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইপের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা আরোপের কোনো আইনি অধিকার নেই।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা























