জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 11
জ্বালানি খাতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, অতীতে নেওয়া অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। শনিবার, ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অস্বীকার করছে না যে দেশের মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য অতীতে নেওয়া অপরিকল্পিত উদ্যোগের খেসারত এখন দেশ, জনগণ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনও সক্রিয়। একটি চক্র কৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বক্তব্য দেন।
স্বাস্থ্যনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে আগে থেকেই মানুষকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস আলভা এডিসনের একটি বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসকেরা শুধু ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবেন। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে এই ধারণার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকার সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতন করবেন। তবে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
রাজনীতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন বা সংগঠিত থাকতে পারেন। তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বল্পতম সময়ে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছর করা—এসব প্রস্তাব অযৌক্তিক নয়।
এ ছাড়া চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা, বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং রাজধানীর বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে। শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো নানা সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক করতে সরকার প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রেখেছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। এরপরও অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
এ কারণে জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না।
সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























