শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৬:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 14
চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে সরকার শিক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন এবং যেসব কেন্দ্রে ত্রুটি বা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, প্রয়োজনে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা বহাল রাখা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল। কোথাও পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি ওঠার খবর পাওয়া মাত্র স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার একটি কেন্দ্র ছাড়া অন্য যেসব স্থানে পানি উঠেছিল, সেগুলো ছিল সীমিত পরিসরে। দ্রুত কেন্দ্র পরিবর্তন করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের জন্য কঠিন নয়। অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হবে না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে ৬৪ জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার আগে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকালে মাঠে পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে পাশের একটি পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ওই কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তার বাড়ি থেকে অন্য পোশাক এনে দেওয়া হয়। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ করা হয়।
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজন হলে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা স্থগিত বা স্থানান্তরের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সরকার নিয়মিতভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
তিনি আরও জানান, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল। ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
এছাড়া দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন। ৩২ হাজার ৬৬৩টি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থী ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ জন। ৯ হাজার ২৯৫টি সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ লাখ এবং ৭ হাজার ৫২৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।






















