ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে ভারতীয় প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 19

ছবিসংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে প্রায় নয় মাস পর এক ভারতীয় প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পাশাপাশি ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত অভিনাশ নার্নে (৩০) গত বছরের অক্টোবর মাসে তার স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুন

ঘটনার পর অভিনাশ জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাজিথাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনাশ দাবি করেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কিছু সময়ের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, তার স্ত্রী বাথরুমে আটকা রয়েছেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই সময়ের মধ্যে তার বাইরে অন্য কেউ বাসায় প্রবেশ করেনি।

ঘটনার পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানায়, রাজিথার মৃত্যু স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত নয়। ময়নাতদন্তে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিনাশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সেই সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৫ জুন পারিবারিকভাবে রাজিথার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের ওই প্রেমিকাও বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিয়ের পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিনাশ অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি পুলিশকে বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন বলে জানানোর সময়ও তার সঙ্গে ফোনালাপ চলছিল। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন।

এ ছাড়া তদন্তকারীরা রাজিথা সাব্বিনেনির মোবাইল ফোনে স্বামীকে পাঠানো কয়েকটি খুদে বার্তা উদ্ধার করেছেন। সেসব বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অভিনাশ তার জন্য যে পানীয় তৈরি করে দিতেন, তার স্বাদ অস্বাভাবিকভাবে তিক্ত লাগত। মৃত্যুর দিন পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, তার দেওয়া স্মুদিটির স্বাদ ওষুধ বা কাশির সিরাপের মতো মনে হচ্ছে।

গত ৫ জুলাই অভিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বর্তমানে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিন নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে ভারতীয় প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে প্রায় নয় মাস পর এক ভারতীয় প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পাশাপাশি ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত অভিনাশ নার্নে (৩০) গত বছরের অক্টোবর মাসে তার স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নড়াইলে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

ঘটনার পর অভিনাশ জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাজিথাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনাশ দাবি করেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কিছু সময়ের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, তার স্ত্রী বাথরুমে আটকা রয়েছেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই সময়ের মধ্যে তার বাইরে অন্য কেউ বাসায় প্রবেশ করেনি।

ঘটনার পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানায়, রাজিথার মৃত্যু স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত নয়। ময়নাতদন্তে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিনাশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সেই সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৫ জুন পারিবারিকভাবে রাজিথার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের ওই প্রেমিকাও বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিয়ের পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিনাশ অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি পুলিশকে বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন বলে জানানোর সময়ও তার সঙ্গে ফোনালাপ চলছিল। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন।

এ ছাড়া তদন্তকারীরা রাজিথা সাব্বিনেনির মোবাইল ফোনে স্বামীকে পাঠানো কয়েকটি খুদে বার্তা উদ্ধার করেছেন। সেসব বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অভিনাশ তার জন্য যে পানীয় তৈরি করে দিতেন, তার স্বাদ অস্বাভাবিকভাবে তিক্ত লাগত। মৃত্যুর দিন পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, তার দেওয়া স্মুদিটির স্বাদ ওষুধ বা কাশির সিরাপের মতো মনে হচ্ছে।

গত ৫ জুলাই অভিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বর্তমানে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিন নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।