ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

‘দেশে ফিরব, আদালতে আত্মসমর্পণ করব’—রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 13

ছবিসংগৃহীত

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দাবি, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  ইয়েমেনে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮, আহত ৫০

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও থাকতে পারে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান। তার ভাষায়, দলের নেতা-কর্মীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং মৃত্যু এলে সেটি নিজের দেশের মাটিতেই হোক—এটাই তার প্রত্যাশা।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”

তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেননি।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করেন। তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ নিজেরাই মূল্যায়ন করতে পারবেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে তিনি কোনো গোপন আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন।

কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে তার উদ্বেগ নেই বলেও সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন তার সরকারি বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসায় জীবনহানির আশঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারেরই ভুল হতে পারে, তবে সেই সরকারের মূল্যায়নের অধিকার জনগণের।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানান শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলটি কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিচার জনগণই করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভারতে অবস্থানরত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বা আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি বার্তা সংস্থাটি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

‘দেশে ফিরব, আদালতে আত্মসমর্পণ করব’—রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৭:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দাবি, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  ভারতে মহাকুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও থাকতে পারে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান। তার ভাষায়, দলের নেতা-কর্মীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং মৃত্যু এলে সেটি নিজের দেশের মাটিতেই হোক—এটাই তার প্রত্যাশা।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”

তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেননি।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করেন। তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ নিজেরাই মূল্যায়ন করতে পারবেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে তিনি কোনো গোপন আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন।

কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে তার উদ্বেগ নেই বলেও সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন তার সরকারি বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসায় জীবনহানির আশঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারেরই ভুল হতে পারে, তবে সেই সরকারের মূল্যায়নের অধিকার জনগণের।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানান শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলটি কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিচার জনগণই করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভারতে অবস্থানরত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বা আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি বার্তা সংস্থাটি।