ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনীর উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 15

ছবিসংগৃহীত

 

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে শুক্রবার, ১০ জুলাই সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ অবস্থান করছেন।

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ধসে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েল সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহকে হটাতে কাজ করছে লেবানন সেনাবাহিনী

এদিকে পাহাড় ধস ও টানা বর্ষণের মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নদী পার হওয়ার সময় তিনি পানির স্রোতে ভেসে যান। অন্যদিকে বিলাইছড়িতে এক বহিরাগত ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে আনা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে আরও ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত সহায়তা জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে।

পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা মাঠে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দুর্যোগকালে জানমালের ক্ষতি এড়াতে সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনীর উদ্ধার

আপডেট সময় ০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে আটকে পড়া ৪২১ পর্যটককে শুক্রবার, ১০ জুলাই সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ অবস্থান করছেন।

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ধসে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ বাহিনী গঠন করতে চলেছে ট্রাম্প

এদিকে পাহাড় ধস ও টানা বর্ষণের মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নদী পার হওয়ার সময় তিনি পানির স্রোতে ভেসে যান। অন্যদিকে বিলাইছড়িতে এক বহিরাগত ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে আনা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে আরও ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত সহায়তা জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে।

পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা মাঠে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দুর্যোগকালে জানমালের ক্ষতি এড়াতে সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।