চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা
- আপডেট সময় ০৩:১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 21
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও বন্যাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার, ১০ জুলাই দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন এসব তথ্য জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো হচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


























