ইরানে রাতভর বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রর অস্বীকার
- আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 23
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই গভীর রাত থেকে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব ঘটনায় নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখনও শেষ হয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি বিভিন্ন গণমাধ্যম দেশের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে। মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর শহর, আশপাশের চোগাদাক এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুশেহরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আল জাজিরাকে জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে তারা কোনো হামলা পরিচালনা করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা চলছে। এর মধ্যে ইরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও নতুন করে চাপে পড়েছে।
বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান বলেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার ফল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি এবং সামনে আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও ইরানে হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান চায়, জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত পথ ব্যবহার করুক। এ ঘটনায় উপসাগরীয় দেশগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্বের সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই সমঝোতা বাতিলের ঘোষণা দেয়নি।























