ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 85

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধস্থল পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা ও পুলিশের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুর এলাকার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশের একটি বিশেষ দল।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রভাস এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি বুলুর

পরে তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রোববার, ৫ জুলাই সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নিখোঁজ ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একই দিন স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় তাকেই প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই কিশোরীকে সর্বশেষ প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজেও এক যুবকের সঙ্গে কিশোরীকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে ওই যুবক প্রভাস মণ্ডল বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রভাস কোনো সহযোগিতা করেননি। বরং তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে তিনি অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও অভিযুক্তের ভূমিকা স্পষ্ট করতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধস্থল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ঘটনায় বিভাগীয় বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত

আপডেট সময় ১১:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধস্থল পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা ও পুলিশের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুর এলাকার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশের একটি বিশেষ দল।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রভাস এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক গণনায় বিজেপি এগিয়ে ১৫০ আসনে

পরে তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রোববার, ৫ জুলাই সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নিখোঁজ ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একই দিন স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় তাকেই প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই কিশোরীকে সর্বশেষ প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজেও এক যুবকের সঙ্গে কিশোরীকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে ওই যুবক প্রভাস মণ্ডল বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রভাস কোনো সহযোগিতা করেননি। বরং তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে তিনি অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও অভিযুক্তের ভূমিকা স্পষ্ট করতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধস্থল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ঘটনায় বিভাগীয় বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।