ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ ইরানের সমর্থকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 14

ছবি সংগৃহীত

 

দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) গভীর রাতে শহরের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি বস্তিতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় আরও অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ১০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তি ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে আসে। এরপর তারা গাড়ি থেকে নেমে সংশ্লিষ্ট বস্তির ভেতরে প্রবেশ করে এবং দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে আকস্মিকভাবে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলার পরপরই বন্দুকধারীরা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হামলায় ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষ মারা গেলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও ৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ হামলার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার নয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আইনি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান চালাচ্ছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং বা দলগত সহিংসতা এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ জন মানুষ সহিংসতায় প্রাণ হারান এবং বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও হামলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত

আপডেট সময় ০৫:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) গভীর রাতে শহরের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি বস্তিতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় আরও অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ১০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তি ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে আসে। এরপর তারা গাড়ি থেকে নেমে সংশ্লিষ্ট বস্তির ভেতরে প্রবেশ করে এবং দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে আকস্মিকভাবে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলার পরপরই বন্দুকধারীরা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হামলায় ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষ মারা গেলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও ৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ হামলার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার নয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আইনি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান চালাচ্ছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং বা দলগত সহিংসতা এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ জন মানুষ সহিংসতায় প্রাণ হারান এবং বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও হামলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।