ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

যেভাবে শনাক্ত হলো নম্বর প্লেট লুকিয়ে চালানো মোটরসাইকেল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 115

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীতে নম্বর প্লেটের একটি অংশ আড়াল করে মোটরসাইকেল চালানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। দীর্ঘ ১২ দিনের অনুসন্ধানের পর মোটরসাইকেল ও চালকের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তদন্তের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার রাকিব আহমেদ।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের গাড়ি খাদে, আহত ৮

তিনি জানান, ঈদের ছুটির সময় প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তবে ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে ঘটেছে, সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশকারীরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ১৯ মে।

রাকিব আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট সময় জানা না থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের সুযোগ সীমিত ছিল। ফলে প্রথমে ধারণার ভিত্তিতে ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর তদন্তকারীরা তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকায় বিজি প্রেসের সামনের স্থানটিকে সম্ভাব্য ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দিক থেকে তোলা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সেটি নিশ্চিত করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা আড়াল করা ছিল। ফলে সম্ভাব্য সব নম্বর বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৯৯৯টি মোটরসাইকেলের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যেসব মোটরসাইকেল ঢাকার বাইরে ছিল, সেগুলোর মালিকদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি রাজধানীতে চলাচলরত মোটরসাইকেলগুলোর তথ্যও যাচাই করা হয়।

ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০টিতে নামিয়ে আনা হয়। এরপর প্রতিটি মালিকের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে নম্বর প্লেটের ছবি সংগ্রহ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সদস্যদের সরাসরি গিয়ে ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তের একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার নাম লাভলু শেখ (৩৮)। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং তেজগাঁওয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সেদিন তার এবং সঙ্গে থাকা অন্যদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা এড়ানোর উদ্দেশ্যে নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে রাখা হয়েছিল। নিজের ও বন্ধুর প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাভলু শেখ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

যেভাবে শনাক্ত হলো নম্বর প্লেট লুকিয়ে চালানো মোটরসাইকেল

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

 

রাজধানীতে নম্বর প্লেটের একটি অংশ আড়াল করে মোটরসাইকেল চালানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। দীর্ঘ ১২ দিনের অনুসন্ধানের পর মোটরসাইকেল ও চালকের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তদন্তের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার রাকিব আহমেদ।

আরও পড়ুন  চার যানবাহনের সংঘর্ষে পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

তিনি জানান, ঈদের ছুটির সময় প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তবে ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে ঘটেছে, সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশকারীরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ১৯ মে।

রাকিব আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট সময় জানা না থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের সুযোগ সীমিত ছিল। ফলে প্রথমে ধারণার ভিত্তিতে ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর তদন্তকারীরা তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকায় বিজি প্রেসের সামনের স্থানটিকে সম্ভাব্য ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দিক থেকে তোলা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সেটি নিশ্চিত করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা আড়াল করা ছিল। ফলে সম্ভাব্য সব নম্বর বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৯৯৯টি মোটরসাইকেলের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যেসব মোটরসাইকেল ঢাকার বাইরে ছিল, সেগুলোর মালিকদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি রাজধানীতে চলাচলরত মোটরসাইকেলগুলোর তথ্যও যাচাই করা হয়।

ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০টিতে নামিয়ে আনা হয়। এরপর প্রতিটি মালিকের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে নম্বর প্লেটের ছবি সংগ্রহ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সদস্যদের সরাসরি গিয়ে ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তের একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার নাম লাভলু শেখ (৩৮)। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং তেজগাঁওয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সেদিন তার এবং সঙ্গে থাকা অন্যদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা এড়ানোর উদ্দেশ্যে নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে রাখা হয়েছিল। নিজের ও বন্ধুর প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাভলু শেখ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।