ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম মন্ত্রীর মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ মান ও শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৬

জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / 116

ছবি সংগৃহীত

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্পে গভীর রাতে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গল ছলিমপুরের ‘অধরা নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

হামলার পর অপরাধীদের দমনে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলি চলে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুরে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা।

এরপরই সেখানে দুই পক্ষ সরাসরি গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়, যা রাত ৩টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তবে এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

এক সময় ‘রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল ছলিমপুরের খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ ও আইকনিক মসজিদসহ সরকারি বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী ও দখলদারদের সশস্ত্র বাধার কারণে প্রশাসনকে বারবার পিছু হটতে হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সেখানে অভিযানে গিয়ে ইয়াছিন বাহিনীর মাইকিং ও হামলার শিকার হয় র‍্যাব। সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে তখন র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন।

এরপর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য আধুনিক হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং এপিসি নিয়ে জঙ্গল ছলিমপুরে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ধরা পড়লেও মূল হোতা ইয়াছিন অধরাই থেকে যান।

মার্চের ওই সফল অভিযানের পর জঙ্গল ছলিমপুর পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গত ১৭ মে জানিয়েছিলেন যে, সরকার এখন ছলিমপুরে একটি আধুনিক ‘পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

আগামী ৩১ মে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জঙ্গল ছলিমপুর পরিদর্শনের একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি রয়েছে। ঠিক তার এক সপ্তাহ আগেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনাটি ঘটল, যা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সন্ত্রাসীদের দমনে যৌথ বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা

আপডেট সময় ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল ছলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্পে গভীর রাতে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গল ছলিমপুরের ‘অধরা নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

হামলার পর অপরাধীদের দমনে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলি চলে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুরে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা।

এরপরই সেখানে দুই পক্ষ সরাসরি গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়, যা রাত ৩টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তবে এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

এক সময় ‘রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল ছলিমপুরের খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ ও আইকনিক মসজিদসহ সরকারি বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী ও দখলদারদের সশস্ত্র বাধার কারণে প্রশাসনকে বারবার পিছু হটতে হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সেখানে অভিযানে গিয়ে ইয়াছিন বাহিনীর মাইকিং ও হামলার শিকার হয় র‍্যাব। সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে তখন র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন।

এরপর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য আধুনিক হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং এপিসি নিয়ে জঙ্গল ছলিমপুরে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ধরা পড়লেও মূল হোতা ইয়াছিন অধরাই থেকে যান।

মার্চের ওই সফল অভিযানের পর জঙ্গল ছলিমপুর পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গত ১৭ মে জানিয়েছিলেন যে, সরকার এখন ছলিমপুরে একটি আধুনিক ‘পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

আগামী ৩১ মে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জঙ্গল ছলিমপুর পরিদর্শনের একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি রয়েছে। ঠিক তার এক সপ্তাহ আগেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনাটি ঘটল, যা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সন্ত্রাসীদের দমনে যৌথ বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।