মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 17
মেগা প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেছেন, কোনো চাপ কিংবা গোপন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বড় নাকি ছোট, সেটি মুখ্য নয়; মানুষের প্রয়োজন পূরণই সরকারের অগ্রাধিকার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত প্রকল্প নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনের আগে বিএনপি বড় কোনো মেগা প্রকল্প না নেওয়ার কথা বললেও মেট্রোরেলসহ একের পর এক বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কেন। সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে সরকার কোনো চাপের মুখে কিংবা গোপনে অবস্থান বদলাচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও করা হয়।
জবাবে জোনায়েদ সাকি বলেন, “গোপনে বা কোনো চাপের কারণে তৈরি হচ্ছে না; একান্তই জনগণের প্রয়োজন থেকে প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢাকা শহরের জন্য আর কী হতে পারে?”
তিনি বলেন, ঢাকার মানুষের বর্তমান যাতায়াতের এক-তৃতীয়াংশও যদি মেট্রোরেল কিংবা ভূগর্ভস্থ রেলব্যবস্থার আওতায় আনা না যায়, তাহলে রাজধানীতে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই প্রকল্পটি মেগা কি না, তা বড় বিষয় নয়। ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থা কীভাবে উন্নত করা যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি দেশেরও অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বিষয়টি মেগা প্রকল্পের প্রশ্ন নয়।
১৩ প্রকল্পে ব্যয় ৫৮ হাজার কোটি টাকা
বুধবারের একনেক সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
এতে সরকারের অর্থায়ন থাকবে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।
গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর আগে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৫৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এ প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৫২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
পুলিশের জন্য বিশেষায়িত ও পরিচালন যানবাহন
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও পরিচালন যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত যানবাহন কেনায় ব্যয় হবে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। পরিচালন যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দুটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশের যানবাহন কেনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় পুলিশের বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
পানি, পয়োনিষ্কাশন ও আবাসন প্রকল্প
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, নালা নির্মাণ ও পুনঃখননের জন্যও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৬৫৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩২ ও ৩৩ নম্বর কূপ খনন, পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট স্থাপন, ঢাকার সেনানিবাস ও জিগাতলায় সরকারি আবাসন নির্মাণ এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।




















