ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।

লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘোষণার ভিত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশকে বিনিয়োগের হাব করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে এ সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান নেতৃত্বের।

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিউ হাইশিং দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথাও জানান লিউ হাইশিং।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ সংকট সমাধানে তিনি চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে লিউ হাইশিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে চীন অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক

আপডেট সময় ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।

লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘোষণার ভিত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে যেসব বিষয় বলবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে এ সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান নেতৃত্বের।

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিউ হাইশিং দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথাও জানান লিউ হাইশিং।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ সংকট সমাধানে তিনি চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে লিউ হাইশিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে চীন অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।