ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম মন্ত্রীর মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ মান ও শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৬

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইন যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন সাংবাদিককে পিটিয়ে জবাবদিহির দাবি কংগ্রেস সদস্যের

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রাখা হবে।

মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে যাতে কাউকে হয়রানি করা না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে লিখিত কারণ দর্শানোর প্রস্তাব

নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এসেছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিমার্জিত খসড়াটি শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি

আপডেট সময় ০১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইন যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান: ৪৮ জন গ্রেপ্তার

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রাখা হবে।

মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে যাতে কাউকে হয়রানি করা না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে লিখিত কারণ দর্শানোর প্রস্তাব

নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এসেছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিমার্জিত খসড়াটি শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।